ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এর একটি ম্যাচ ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক নিয়ে তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গুলশান ক্রিকেট ক্লাব বনাম শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার ওই ম্যাচে স্টাম্পিংয়ের দুটি ঘটনা ক্রিকেট অঙ্গনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচটিতে শাইনপুকুরের দুই ব্যাটার রহিম আহমেদ ও মিনহাজুল আবেদিন সাব্বির স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে আউট হন। তবে তাদের আউট হওয়ার ধরনকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা।
প্রথম ঘটনায়, বাঁহাতি স্পিনার নিহাদুজ্জামানের একটি বলে খেলতে এসে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যান ব্যাটার রহিম আহমেদ। সন্দেহের উদ্রেক করে তার অবস্থান, কারণ তিনি কতটুকু বেরিয়েছিলেন তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
দ্বিতীয় ঘটনাটি আরও বেশি বিতর্ক তৈরি করে। অফ স্পিনার নাঈম ইসলামের একটি ওয়াইড বল অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে থাকায় কোনো শট না খেলে শুধু নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা থেকে বিরত থাকেন ব্যাটার মিনহাজুল। বরং তিনি ব্যাট সরিয়ে নিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন যেন নিজের আউট হওয়া দেখছেন! প্রথমবার স্টাম্প ভাঙতে ব্যর্থ হন গুলশানের উইকেটরক্ষক আলিফ হোসেন। তবে দ্বিতীয় চেষ্টায় তিনি স্টাম্পিং সম্পন্ন করেন।
এই আউটের সময় শাইনপুকুরের হাতে ছিল মাত্র ১ উইকেট এবং তাদের দরকার ছিল ৭ রান, ৪২ বল হাতে রেখে। মিনহাজুল আউট হওয়ার পর ৫ রানে জয় পায় গুলশান ক্রিকেট ক্লাব।
এই ঘটনাগুলো বিসিবির নজর এড়ায়নি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, “বিসিবি নতুন করে খেলার সততা ও নৈতিকতার মানদণ্ড, সবকিছুর ওপরে রাখার প্রতিশ্রুতির কথা জানাচ্ছে। কোনো ধরনের দুর্নীতি ও খেলার স্পিরিটকে ক্ষুণ্ন করে, এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি আছে বিসিবির।”
ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট ও লিগের টেকনিক্যাল কমিটি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, “ম্যাচে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা দেখতে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে বিসিবি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
বিসিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা দেশের সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রমে খেলায় সততা ও নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ
বিডি রেজিস্টার ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর