হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টন সবসময়ই তার ফিটনেস সচেতনতার জন্য পরিচিত। তবে এখন ৫৬ বছর বয়সে এসে তিনি জানিয়েছেন—শুধু কঠোর জিম আর ঘাম ঝরানো ব্যায়াম নয়, শরীরের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকাটাই আসল কৌশল।
জেনিফার বলেন, এখন তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ‘সবচেয়ে ভালো ফিট’ বোধ করছেন। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একটি সহজ, কার্যকর এবং কম-ঝুঁকিপূর্ণ ব্যায়াম রুটিন—‘Pvolve’।
এই ব্যায়াম পদ্ধতি মূলত Low-impact এক্সারসাইজের উপর নির্ভরশীল। এর মাধ্যমে শরীর ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়, আর দীর্ঘমেয়াদে ফিটনেস ধরে রাখা সম্ভব হয়। জেনিফার এখন যেই রুটিন অনুসরণ করেন, তা অত্যন্ত সহজ কিন্তু সুফলদায়ক।
জেনিফারের ব্যায়াম কৌশলগুলো
জেনিফার যে রুটিনে ব্যায়াম করেন, সেখানে রয়েছে:
- হালকা ওজনের ডাম্বেল ব্যবহার
- ব্যান্ড ও গ্লাইডার দিয়ে কার্ডিও ও স্ট্রেংথ ট্রেনিং
- ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ (যেমন plank)
- ‘Sculpt and burn’ নামে ৫০ মিনিটের পুরো শরীরের ব্যায়াম
এই পদ্ধতিতে ব্যায়াম শুধু পেশি শক্তিশালী করে না, বরং জয়েন্ট, হৃদপিণ্ড এবং হাড়কেও মজবুত করে তোলে।
কেন এই ব্যায়াম পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে?
এই ব্যায়াম সম্পর্কে জেনিফার বলেন:
- শরীরে খুব কম চাপ পড়ে
- জয়েন্ট ও পিঠের মত স্পর্শকাতর জায়গা নিরাপদ থাকে
- পেশি শক্তিশালী হয় ধীরে ধীরে
- বাসা, হোটেল বা বাইরে—যেকোনো জায়গা থেকেই করা সম্ভব
রুটিনটিতে রয়েছে হালকা ওজনের এক্সারসাইজ, স্ট্রেচিং, আর ধাপে ধাপে পেশি গঠনের কৌশল।
২০২১ সালে এক সিনেমার শ্যুটিং চলাকালে পিঠের পুরনো চোট আবারও মাথাচাড়া দেয়। সেই সময় এক বন্ধু তাকে ‘Pvolve’ ব্যায়ামের পরামর্শ দেন। ফলাফল? জেনিফার নিজেই বলেন, “আমি ধীরে ধীরে পেশি মজবুত করে পিঠের ইনজুরি সারাতে পেরেছি। আগের মতো বিছানায় পড়ে থাকতে হয়নি।”
জেনিফার অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তার ২০ ও ৩০ দশকে তিনি শরীরকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চাপে ফেলেছেন। “দৌড়ানো, বক্সিং, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিম—এসব করতে গিয়ে শরীরের অনেক ক্ষতি করেছি,” বলেন তিনি।
“আগে ভাবতাম ‘No pain, no gain’, মানে কষ্ট না পেলে লাভ নেই। এখন বুঝি, শরীরকে ভাঙা নয়, তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে।” — এই উপলব্ধির ভিত্তিতেই জেনিফার তার ফিটনেস যাত্রায় এনেছেন নতুন মোড়।
তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, আমি এখন সবচেয়ে ফিট, সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় আছি। আমি চাই এই শরীরটিই আমাকে জীবনভর সঙ্গ দিক।”
যারা এখনো ব্যায়াম শুরু করেননি বা জটিল রুটিনে আগ্রহী নন, তাদের জন্য জেনিফার অ্যানিস্টনের এই রুটিন হতে পারে দারুণ অনুপ্রেরণা। সহজ, নিরাপদ এবং কার্যকর ব্যায়াম শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকার চাবিকাঠিও হয়ে ওঠে।
তথ্যসূত্র: টুডে ডট কম
বিডি রেজিস্টার ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর