ঢাকা আবাহনী নিজেদের দক্ষতা আর দৃঢ়তায় ফের প্রমাণ করল তারা এখনও দেশের ফুটবলে অন্যতম শক্তিশালী দল। ফেডারেশন কাপের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে শেষ হয়। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে আবাহনী দেখায় চূড়ান্ত দৃঢ়তা।
বসুন্ধরা কিংসের জন্য দিনটি শুরু থেকেই কঠিন ছিল। ঘাড়ের চোটের কারণে রক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড় কাজী তারিক ও রায়হানকে মাঠে পায়নি তারা। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুয়ান লেসকানো চোট কাটিয়ে ফিরলেও শুরুর একাদশে তাকে নামাননি কোচ ভালেরি তিতে। ফলে আক্রমণভাগে দেখা যায়নি কিংসের চেনা ধার।
প্রচণ্ড গরমে ম্যাচের শুরুটা ছিল ছন্দহীন। দুই দলই রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলা শুরু করে। ২৮ মিনিটে প্রথম কুলিং ব্রেকের আগ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য আক্রমণ ছিল না। আবাহনী রক্ষণে মনোযোগী থাকলেও কিংস কিছুটা আক্রমণ শাণানোর চেষ্টা করলেও গোলের মুখ দেখেনি।
১৬ মিনিটে জোনাথন ফের্নান্দেসের ফ্রি কিকে কিংসের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দেসিয়েল এলিস দস সান্তোস হেড নিলেও তা ঠেকিয়ে দেন আবাহনীর গোলরক্ষক মিতুল মারমা। এরপরও কিংস আক্রমণের ধার বাড়ায়, কিন্তু ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও জনির সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় সমতায় শেষ হয় সময়।
৪২ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় আবাহনী। ডিফেন্ডার আসাদুজ্জামান বাবলু দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় রক্ষণশক্তি বাড়াতে মিডফিল্ডার রবিউলকে তুলে নামানো হয় ডিফেন্ডার শাকিল হোসেনকে।
দ্বিতীয়ার্ধে কিংস এগিয়ে যায় ৫৭ মিনিটে। জোনাথনের লং বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন ইয়াসিন খান ও শাকিল হোসেন। তাদের ফাঁক গলে বল নিয়ে জালে টোকা দেন মজিবুর রহমান জনি। গোলরক্ষক মিতুল পুরোপুরি বিভ্রান্ত হন।
৮৪ মিনিটে ফিরে আসে আবাহনী। রাফায়েল অগস্তর বাঁকানো ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরলে তা নিখুঁতভাবে জালে জড়ান বদলি খেলোয়াড় আরমান ফয়সাল আকাশ।
অতিরিক্ত সময়ে দুই দলই কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলার চেষ্টা করে। ১০২ মিনিটে আবাহনীর আক্রমণে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় বল, কিন্তু কিংসের মেহেদি হাসান দুর্দান্তভাবে বল ক্লিয়ার করেন। শেষ দিকে গোলরক্ষক আনিসুর রহমানকে নামিয়ে সাহসী পদক্ষেপ নেয় কিংস।
টাইব্রেকারে আবাহনীর প্রথম শট জাফর ইকবাল আটকে দেন আনিসুর। তবে এরপর রাফায়েল অগস্ত, এমেকা, সবুজ হোসেন ও ইব্রাহিম গোল করতে ভুল করেননি। কিংসের হয়ে গোল করেন ফের্নান্দেস ও শেখ মোরসালিন। কিন্তু রাব্বি হোসেনের শট ফিরিয়ে দেন মিতুল মারমা এবং ডেসিয়েল মারেন উড়িয়ে।
ফেডারেশন কাপের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে আবাহনী দেখিয়েছে তাদের পরিণত মানসিকতা ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা। গোলরক্ষক মিতুল মারমা পুরো ম্যাচে ছিলেন দুর্দান্ত, বিশেষ করে টাইব্রেকারে তার অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। সব মিলিয়ে আবাহনীর জন্য এটি ছিল একটি মূল্যবান জয়, যা তাদের ফাইনালের পথে এগিয়ে দিল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।
তথ্যসূত্র: খেলা যোগ
বিডি রেজিস্টার ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর