চাপে নেতানিয়াহু: পদত্যাগের দাবিতে জোরালো হচ্ছে আন্দোলন

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছেন। গাজায় চলমান যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রেক্ষাপটে, সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সরব বিরোধিতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি ইসরাইলের বিমান বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য একযোগে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কাছে চিঠি পাঠিয়ে যুদ্ধ বন্ধ এবং গাজায় হামলার অবসান ঘটিয়ে জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান জানান। এবার এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ইউনিটের কয়েকশো সদস্য, যারা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একই ধরনের বার্তা পাঠিয়েছেন।

গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরাইল জুড়ে চলা জিম্মি মুক্তির দাবিতে আন্দোলন এখন রূপ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পদত্যাগ এবং আগাম নির্বাচনের দাবিতে। দেশব্যাপী সাধারণ নাগরিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, “আমরা গণতন্ত্র থেকে একনায়কতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছি। গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই এই বিক্ষোভ। আমরা কোনোভাবেই নেতানিয়াহু ও তার দলকে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন কায়েম করতে দেব না।”

নেতানিয়াহু বর্তমানে একাধিক বিতর্ক এবং কেলেঙ্কারির মুখোমুখি। সাম্প্রতিক ‘কাতার গেট’ কেলেঙ্কারিতে তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগে আদালতের সামনে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাকে।

সর্বশেষ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা শিনবেতের প্রধান রোনেন বার্কে-কে বরখাস্ত করতে গিয়ে জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হন নেতানিয়াহু। এতে তার সরকারের প্রতি জনসমর্থনের ভয়াবহ পতন ঘটে।

জনমত জরিপগুলোতেও নেতানিয়াহুর সরকারের জনপ্রিয়তা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। কিছু জরিপে দেখা গেছে, সরকারের সমর্থন ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। যুদ্ধ, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির কারণে অনেক বিশ্লেষক নেতানিয়াহুর সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন।

সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন গাভিরের দল, হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারণে সরকার থেকে সরে দাঁড়ালে জোট সরকার আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে কট্টরপন্থীদের খুশি করতেই গাজায় আবারও হামলা শুরু করেছেন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলি বিক্ষোভকারীরা বলছেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। জিম্মিদের মুক্তি চাই এবং একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার চাই।”

সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপ, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং যুদ্ধ ক্লান্ত সেনাবাহিনীর বিরোধিতার মুখে পড়ে বর্তমানে এক গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

Leave a Reply