বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা দেশ। সেই সময়ের জনপ্রিয় এই নায়কের মৃত্যু আজও রহস্যঘেরা হয়ে আছে। যদিও বছর ঘুরে বারবার ফিরে আসে এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—সালমান শাহ’র অকালপ্রয়াণ ও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।
২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের তদন্ত বিভাগ জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যাই করেছিলেন। তবে এই সিদ্ধান্ত এখনো অনেক ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাদের দাবি, এটি কেবল আত্মহত্যা নয়, এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে।
সালমান শাহ’র মৃত্যুবার্ষিকী সামনে। প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তসমর্থকরা তার মৃত্যু নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। তারা মনে করেন, এই রহস্যের সঠিক ও নিরপেক্ষ সমাধান হওয়া উচিত, যাতে সত্য উদ্ঘাটিত হয় এবং একজন কিংবদন্তির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো যায়।
সম্প্রতি সালমান শাহ’র মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সামিরা যে তার স্বামীর বন্ধুকে বিয়ে করেন, সেই পুরোনো ঘটনা আবারও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন, হয়েছে বিতর্ক।
এই প্রসঙ্গে সামিরা বলেন, “এটা কেমন কথা। আমি সালমান শাহ মারা যাওয়ার পর ওনি, ইফ আই এম নট রং, আপনি যদি রেডিও এফ এম এ যান আপনি এখনো রেকর্ডটা পাবেন, ওনি বলেছেন যে, সামিরা আমাকে না বলে কেন চলে গেল, ওর বাবা কেন আমার থেকে ওকে নিয়ে গেল। ওকে তো আমি শাহরানের সাথে বিয়ে দিতে পারতাম। ওনি যদি ওনার নিজের ছোট ছেলের সাথে আমাকে বিয়ে দিতে চায়, আমি কেন বন্ধুর সাথে বিয়ে করতে পারব না?”
তিনি আরও বলেন, “আর বন্ধুর সাথে বিয়ে করাটা কোনটাই আমার সিদ্ধান্ত ছিল না। এটা আমার বাবা মা’র সিদ্ধান্তে বিয়েটা হয়েছে। এটা এরেঞ্জ ম্যারেজ ছিল, লাভ ম্যারেজ ছিল না।”
সামিরার এই বক্তব্যে সমাজের বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে তার ব্যক্তিগত জীবনের অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে সালমান শাহ’র মৃত্যুর পেছনের সম্ভাব্য এক টুকরো সূত্র হিসেবেও ভাবছেন। তবে তার পরিবার ও স্ত্রী বারবারই বলে আসছেন, তাদের কোনো দোষ নেই, এবং তারা চায় এই বিতর্কের অবসান হোক।
সালমান শাহ ছিলেন একটি প্রজন্মের আইকন, যাঁর মৃত্যু নিয়ে আজও প্রশ্ন রয়ে গেছে। মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরেও তার জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি, বরং সময়ের সাথে আরও গভীর হয়েছে তার প্রতি মানুষের ভালবাসা। সামনে যখন তার মৃত্যুবার্ষিকী, তখন আবারও এই প্রজন্মের দাবি—এই মৃত্যুর পেছনের সত্য বেরিয়ে আসুক, যেন শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার হয়।
তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ
বিডি রেজিস্টার ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর