ট্রাম্পকে সমর্থনকারী ব্যবসায়ীরাও এখন সুর পাল্টাচ্ছেন

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্কারোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই শুল্ক আরোপের ফলে শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গেছে এবং আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন মার্কিন ধনকুবেররা, যারা একসময় ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থক বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারী বিল অ্যাকম্যান নতুন শুল্ক আরোপকে “অর্থনৈতিক পারমাণবিক যুদ্ধ” হিসেবে তুলনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা একটি পোস্টে তিনি বলেছেন, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে এবং ভোক্তারা তাদের ব্যয় বন্ধ করবে। এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমেরিকার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা পুনরুদ্ধার করতে অনেক বছর কিংবা দশকও লেগে যেতে পারে।

পার্শিং স্কয়ার ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সিইও বিল অ্যাকম্যান আরও বলেন, “যদি ট্রাম্প তার অবস্থান পরিবর্তন না করেন, তাহলে আমরা একটি স্ব-প্রণোদিত অর্থনৈতিক দুর্যোগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”

এছাড়া, জেপি মরগান চেজের সিইও জেমি ডিমন সতর্ক করে বলেছেন, শুল্ক আরোপের ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে ধাবিত হবে। তিনি বলেন, “শুল্কের ফলে মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং অনেকেই মন্দার সম্ভাবনা বেশি মনে করছেন।”

বিনিয়োগ সংস্থা ডুকেসনে ফ্যামিলি অফিসের প্রতিষ্ঠাতা বিলিয়নিয়ার স্ট্যানলি ড্রুকেনমিলার বলেছেন, তিনি ১০ শতাংশের বেশি শুল্ক সমর্থন করেন না। ফিশার ইনভেস্টমেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান বিলিয়নিয়ার কেন ফিশারও ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এটা বোকামি, ভুল, চরম উদ্ধত এবং ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাকে অবজ্ঞা করা।”

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এবং ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগী ইলন মাস্কও শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি ইউরোপ এবং আমেরিকার মধ্যে শূন্য শুল্ক নীতির আশা প্রকাশ করেছেন। ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, তিনি ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে একটি কার্যকর মুক্ত-বাণিজ্য অঞ্চল দেখতে চান।

বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়িক নেতারা ট্রাম্পের শুল্ক নীতির অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের ডেপুটি চিফ গ্লোবাল ইকোনমিস্ট সাইমন ম্যাকঅ্যাডাম বলেন, “এই শুল্ক নীতির কারণে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করতে বিরত থাকতে পারে।”

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান টাইমস

Leave a Reply